
ঢাকা, ৩ জুন – শহিদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার, খুনিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং এই ঘটনার পেছনে থাকা দেশি ও বিদেশি চক্রান্ত উদ্ঘাটনের দাবিতে নতুন আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।
সংগঠনটির অভিযোগ, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে তারা আগামী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মশাল মিছিল এবং শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে।
বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ওসমান হাদি হত্যার বিচার কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন সময় নানা অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
তার অভিযোগ, ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশের ভেতরে যারা খুনিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে তারাও এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
সংবাদ সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সূত্র ধরে দাবি করা হয় যে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে এমন কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা সংস্থার হাত থাকতে পারে যাদের নাম প্রকাশ পেলে দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে। সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করা হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের দাবি, রাজধানীর মতো সুরক্ষিত এলাকায় একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীকে গুলি করে হত্যার পর খুনিরা প্রায় ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা দেশের ভেতরে থাকলেও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো তাদের শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত সিল করতে কেন দীর্ঘ সময় নেওয়া হলো, সেই বিষয়ে সরকারের কাছে জবাব চেয়েছেন নেতারা।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খুনিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কাজ করার কথা বললেও সেই বক্তব্যকে ধোঁয়াশাপূর্ণ বলে অভিহিত করেছে সংগঠনটি। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় বারবার পিছিয়ে দেওয়াকে বিচার বিলম্বিত করার কৌশল হিসেবে দেখছেন তারা।
সম্মেলনে সংগঠনের প্রকাশনা সম্পাদক ফাহিম মীর ও সদস্য হাবিবুল্লাহ মিসবাহসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এনএন/ ৩ জুন ২০২৬






