ওরিগনের প্রশান্ত মহাসাগরপারের ওশানসাইড ও কেপ মিয়ারসে কয়েক দিন

পার্কিং থেকে কয়েকটা সিঁড়ি ভেঙে নিচের লালচে বালুকাময় সৈকতে আমরা হাঁটতে শুরু করলাম। আমাদের সামনে দিগন্তবিস্তৃত, অপরূপ প্রশান্ত মহাসাগর, মহাগর্জন তুলে ফেনিল ঢেউগুলো দূর থেকে সৈকতে আছড়ে পড়ছে, অবিরাম, ক্লান্তিহীনভাবে। সৈকতে দাঁড়িয়ে উত্তর দিকে তাকালে দেখা যায়, সমুদ্রের মধ্যে মাথা উঁচু করে দৃঢ় পায়ে নিশ্চল দাঁড়িয়ে থাকা এক পাহাড়, আর তার সামনে সমুদ্রের পানিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি গোলাকার ছোট পাহাড়। পুরো ব্যাপারটা আমার কাছে মনে হয়েছে সমুদ্রের আহ্বানে দুরন্ত বালকদের মহাসাগরের দিকে ছুটে চলা। ছোটরা দ্রুততায় পানিতে নেমে পড়েছে আর বড়টি পেছনে পড়েছে তাদের মতো জোরে দৌড়াতে না পারায়। থ্রি-আর্ক রক বা তিন-খিলানযুক্ত শিলা নামের এটি সমধিক পরিচিত।

কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতের মতো ওশানসাইড সৈকতে আমি ঝিনুক খুঁজেছি, কিন্তু কিছু শৈবাল ও আগে থেকে ভেসে আসা শুকনো গাছের গুঁড়ি শুধু দেখেছি। তবে শুনলাম, একটু দক্ষিণে নেটার্তে স্থানীয়রা ঝিনুক সংগ্রহ করেন। ওই এলাকার উপগ্রহচিত্র দেখে আমার ধারণা হয়েছে, সমুদ্রস্রোতের গতি ও দিক ঝিনুকের ভেসে আসাকে প্রভাবিত করে, জমা হওয়ার জায়গা নির্দিষ্ট করে।

Scroll to Top