ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কিনছে বাংলাদেশ। এ জন্য রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন উড়োজাহাজ সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও এয়ারবাসের মধ্যে চুক্তি হবে আজ বুধবার (০৭ অক্টোবর)। সরকার চাইকে নির্ধারিত সময়ের আগেই, অর্থাৎ ২০৩০ সালের মধ্যে এসব উড়োজাহাজের সরবরাহ সম্পন্ন হোক।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুক্তিটিতে চারটি ওয়াইড-বডি ‘এ৩৫০-৯০০’ এবং ছয়টি ন্যারো-বডি ‘এ৩২১নিও’ জেট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন এবং এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর জার্গেন ওয়েস্টারমেয়ার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করবেন।
রাজধানীর একটি হোটেলে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ‘স্প্রেডিং আওয়ার উইংস টুগেদার’ শীর্ষক এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির উপস্থিত থাকবেন। এদিকে সরবরাহপ্রক্রিয়া দ্রুততর করার তাগিদ দিয়েছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে জার্মান রাষ্ট্রদূত রুডিগার লটজের নেতৃত্বে লুফথানসার একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বৈঠক শেষে জানানো হয়, সরকার ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তি করার প্রক্রিয়ায় থাকলেও উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ সময়সূচি এগিয়ে আনা জরুরি।
এর আগে মন্ত্রী জানিয়েছিলেন যে এয়ারবাসের উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ ২০৩৩ থেকে ২০৩৭ সালের মধ্যে শুরু হতে পারে, তবে সরকার চায় তা ২০৩০ সালের আগেই শুরু হোক। বৈঠকে মন্ত্রী আরো জানান, বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। এই উদ্দেশ্যে দেশে উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল (এমআরও) কারখানা স্থাপনে লুফথানসার বিনিয়োগ এবং দক্ষ জনবল তৈরিতে বিমানের সঙ্গে যৌথ কাজের সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ২০১৭ সাল থেকে কার্গো পরিবহনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরোপিত ‘হাই রিস্ক কার্গো অ্যান্ড মেইল’ সতর্কতা তুলে নিতে জার্মানির কারিগরি ও নীতিগত সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
বোয়িং থেকে আসবে আরো ২৫ উড়োজাহাজ
এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তির আগে চলতি বছর দুই দফায় মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান। গত ৩০ এপ্রিল প্রথম দফায় প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলারে (প্রায় ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা) ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়। এর মধ্যে রয়েছে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ও চারটি ৭৩৭-৮।
দ্বিতীয় দফায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে আরো ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই হয়। এর মধ্যে পাঁচটি ৭৮৭-১০ ও ছয়টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বলছে, বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ আসা শুরু হতে পারে ২০৩১ সালে। সব উড়োজাহাজ পেতে ১১-১২ বছর সময় লাগবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তি সই হলেও এখনই উড়োজাহাজগুলোর জন্য অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে না। একটি করে উড়োজাহাজ সরবরাহের সময় তার মূল্য পরিশোধ করা হবে। তবে বিমান কর্তৃপক্ষ অন্তত একটি উড়োজাহাজ ২০২৭ বা ২০২৮ সালে সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে।
বিমানের বহরে বর্তমানে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি বোয়িং ও পাঁচটি ড্যাশ-৮। তবে বহরের দুটি উড়োজাহাজ প্রায় অচল হয়ে পড়ার অবস্থায় রয়েছে। বাকি ১৭টিও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বহর থেকে বাদ পড়বে। এ কারণে তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে আরো ১০টি উড়োজাহাজ ভাড়া (লিজ) নেওয়ার চেষ্টা করছে বিমান। একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো কোনো উড়োজাহাজ ভাড়া নিতে পারেনি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাটি।
এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হলে এবং বোয়িংয়ের চুক্তি করা ২৫টি উড়োজাহাজ যোগ হলে আগামী বছরগুলোতে বিমানের বহরে নতুন উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৫। বর্তমানের ১৯টি উড়োজাহাজ মিলিয়ে বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা ৫০ ছাড়াবে।



