অ্যানিমেশন সিনেমাপ্রেমীদের কাছে ‘মোয়ানা’ জনপ্রিয় একটি নাম। ডিজনির এই মিউজিক্যাল অ্যাডভেঞ্চার সিনেমা মুক্তি পায় ২০১৬ সালে। দর্শকদের দারুণ সাড়া পাওয়া সিনেমাটি বক্স অফিসও মাত করেছে। ঘরে তুলেছে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ডিজনি নিয়ে আসে এর সিকুয়েল ‘মোয়ানা ২’। এর সাফল্য ছাড়িয়ে যায় আগের সিনেমাকেও। আয় করে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি। শুধু তা–ই নয়, বিশ্বজুড়ে অগণিত ‘মোয়ানা’ ভক্ত তৈরি হয়ে যায়। আর এই ভক্তদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে আবারও পর্দায় আসছে ‘মোয়ানা’। তবে এবার অ্যানিমেশন নয়, লাইভ অ্যাকশনে।
এবার চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছেন বাস্তবের শিল্পীরা। অবশ্য অ্যানিমেশনও থাকবে কিছু কিছু। টমাস কাইল পরিচালিত ওয়াল্ট ডিজনি পিকচার্সের এই সিনেমা আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পেয়েছে ১০ জুলাই। একই দিনে স্টার সিনেপ্লেক্সেও মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। মাল্টিপ্লেক্সটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
লাইভ-অ্যাকশন মোয়ানার অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো মাউই চরিত্র। সিনেমায় এ চরিত্রে অভিনয় করেন ডোয়াইন জনসন। তিনি এই চরিত্রটিতে ২০১৬ সালের অ্যানিমেটেড সংস্করণে কণ্ঠ দিয়েছিলেন। এই অভিনেতার কাছে মাউই কেবল একটি চরিত্র নয়, বরং পলিনেশীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও একটি অংশ। দশকেরও বেশি সময় ধরে অ্যানিমেশনে ‘মাউই’ চরিত্রের নেপথ্যে কণ্ঠ দেওয়ার পর, এবার সরাসরি ক্যামেরার সামনে সেই চরিত্রে অভিনয় করাকে নিজের ক্যারিয়ারের অনন্য অভিজ্ঞতা বলে উল্লেখ করেছেন ডোয়াইন জনসন।

এক সাক্ষাৎকারে ‘মাউই’ নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন দ্য রক, ‘লাইভ অ্যাকশনে মাউই চরিত্রে অভিনয় করা আমার ক্যারিয়ারের অন্য সব কাজ থেকে একদম আলাদা। পর্দায় যখন রক্ত-মাংসের মানুষের মাধ্যমে আমাদের পলিনেশীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ ফুটে ওঠে, তখন অনুভূতিটাই বদলে যায়।’
জনসন জানান, গত এক দশকে একজন বাবা হিসেবে তাঁর জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও উত্থান-পতন এ চরিত্রটিকে আরও গভীরভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করেছে। এ ছাড়া চরিত্রটির সঙ্গে তাঁর একটি ব্যক্তিগত আবেগও জড়িয়ে আছে। ‘মাউই’ চরিত্রের মধ্যে তিনি নিজের দাদার প্রতিচ্ছবি খুঁজে পান। পাশাপাশি হাওয়াইতে কাটানো তাঁর শৈশব ও বেড়ে ওঠার দিনগুলোর স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই গল্পের সঙ্গে। অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে ৩২ হাজারেরও বেশি আবেদনকারীর মধ্য থেকে কাস্টিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোয়ানা সিনেমার প্রধান নারী চরিত্রে নবাগত ক্যাথরিন লাগাইয়াকে নেওয়া হয়েছে। পরিচালক টমাস কাইল বলেন, প্রথম অডিশনেই তিনি মুগ্ধ হয়েছিলেন, যখন অভিনেত্রী ‘হাউ ফার আই’ল গো’ গানটি গেয়ে চরিত্রটির বিশ্ব ভ্রমণের আকাঙ্ক্ষা ফুটিয়ে তুলেছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া সামোয়ান বংশোদ্ভূত ক্যাথরিন লাগাইয়া বলেন, মোয়ানা এমন একজন আদর্শ যিনি তাঁর শৈশবের সঙ্গী ছিলেন। এই অভিনেত্রী বিশ্বাস করেন মোয়ানার সাহস, কৌতূহল ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাঁকে আজকের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতেও সাহায্য করেছে। যার ফলে তিনি স্বাভাবিকভাবেই চরিত্রটির সঙ্গে একাত্ম হতে পেরেছেন।

সিনেমার গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে সাহসী কিশোরী মোয়ানা, যে নিজের দ্বীপ ও জনগণকে রক্ষা করতে এক বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় বের হয়। এই অভিযানে তার সঙ্গী হয় শক্তিশালী কিন্তু অহংকারী এক অর্ধদেবতা । নানা বাধা পেরিয়ে তারা প্রকৃতির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে। মূল গল্পের আবেগ, পরিবার, দায়িত্ববোধ এবং নিজের পরিচয় খুঁজে পাওয়ার বিষয়গুলো লাইভ-অ্যাকশন সংস্করণেও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে সিনেমাটি নিয়ে ভক্তদের যে উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে তাতে আরও একটি দুর্দান্ত সাফল্যের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।


