
যুক্তরাষ্ট্র, ৯ ফেব্রুয়ারি – ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স আবারও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি প্ল্যাটফর্মটিতে আয়োজিত একটি লেখালেখির প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সূত্রপাত। এক্স কর্তৃপক্ষ আগে জানিয়েছিল, এই প্রতিযোগিতার লেখায় কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বক্তব্য থাকা চলবে না। তবে বিজয়ীদের তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেছে, সেই নিয়ম কার্যত মানা হয়নি। এক্স তাদের ‘আর্টিকেলস’ ফিচারটি জনপ্রিয় করতে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল, যেখানে পুরস্কারের মোট অর্থমূল্য ছিল কয়েক মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ বা ১ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার পেয়েছেন এমন এক ব্যবহারকারী, যার বিরুদ্ধে অতীতে বর্ণবাদী ও চরমপন্থী পোস্ট করার অভিযোগ রয়েছে। বিজয়ী ওই ব্যবহারকারীর হ্যান্ডেল নাম বেভার্ড।
তার বিজয়ী লেখাটির বিষয়বস্তু ছিল ডেলয়েট নামের একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগভিত্তিক বিশ্লেষণ। ইলন মাস্ক ফলাফল ঘোষণার আগেই ওই লেখায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন এবং বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। তবে ওই ব্যবহারকারীর পুরোনো পোস্টগুলো নতুন করে সমালোচনার ঝড় তুলেছে, যেখানে অভিবাসী বিদ্বেষী মন্তব্য এবং হিটলারের প্রতি সমর্থনসূচক বক্তব্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে এক্স কর্তৃপক্ষ বা বিজয়ী ব্যবহারকারী কেউ আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেননি। শুধু প্রথম পুরস্কারই নয়, অন্যান্য পুরস্কারপ্রাপ্তদের লেখাতেও ডানপন্থী রাজনৈতিক মতাদর্শের স্পষ্ট ছাপ লক্ষ্য করা গেছে।
সংস্কৃতি, অভিবাসন ও বর্ণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো সেখানে উঠে এসেছে। একজন ব্যবহারকারী এমন একটি লেখার জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে পশ্চিমা বিশ্ব দাসপ্রথা বিলুপ্ত করেছে। ইলন মাস্ক অতীতে এই লেখার প্রশংসা করেছিলেন। আরেকজন মিনেসোটার একটি ডে কেয়ার সেন্টারের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে পুরস্কার পেয়েছেন, যদিও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তদন্তে এমন কোনো সত্যতা পায়নি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগ্রহের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা লেখকরাও পুরস্কারের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। অবশ্য সব লেখা রাজনৈতিক ছিল না, আবহাওয়া বা ব্যক্তিগত উন্নয়নের মতো বিষয়ে লিখেও কেউ কেউ পুরস্কার জিতেছেন।
তবে সমালোচকদের প্রশ্ন হলো, রাজনীতি নিষিদ্ধ করার নিয়ম থাকার পরও এত বিপুলসংখ্যক রাজনৈতিক লেখা কীভাবে পুরস্কৃত হলো। এক্স ইতিমধ্যে নতুন আরেকটি ভিডিও বিজ্ঞাপন প্রতিযোগিতার ঘোষণা দিয়েছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, এক্সের কনটেন্ট যাচাই ও নীতিমালার প্রয়োগ এখনো অস্পষ্ট এবং ইলন মাস্কের ব্যক্তিগত মতাদর্শের সঙ্গে মিল থাকা কনটেন্টগুলো বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে জোর আলোচনা চলছে।
এসএএস/ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬





