
তেহরান, ০৮ অক্টোবর – মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা ও মার্কিন উপকূলে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের জোড়া আঘাতে মারাত্মক ধাক্কা খেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের বাজার। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) তেলের আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একলাফে প্রায় পাঁচ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫.৩ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার তীব্র আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র আতঙ্ক, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্ব শেয়ার ও বন্ড বাজারেও।
ইরানে হামলার পরিকল্পনা ও মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত সংকট
তেলের বাজারের এই হঠাৎ অস্থিরতার নেপথ্যে মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিধি বাড়ার খবর। আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘দ্য আটলান্টিক’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস মার্কিন পেন্টাগনকে ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে—হামলার মাত্রা, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু ও সময়সূচি নিয়ে আলোচনা চলছে। এই খবরের পর মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রশাসনের সংঘাত এড়িয়ে চলার প্রত্যাশা বড় ধাক্কা খেয়েছে।
কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে আঘাত ও সরবরাহ সংকট
বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহন পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ ঘিরে উদ্বেগ নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। বুধবার কাতারের উত্তর উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে হতাহতের ঘটনা নিশ্চিত করেছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস। সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক না থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির চরম হাহাকার তৈরি হতে পারে।
আমেরিকায় ঝড়ের থাবা: বন্ধ উৎপাদন
কেবল মধ্যপ্রাচ্যই নয়, আটলান্টিক মৌসুমের প্রথম হারিকেনের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল উৎপাদন থমকে গেছে। উপকূলবর্তী অঞ্চলে ঝড়ের চোখ রাঙানিতে শেল ও শেভরনের মতো জ্বালানি জায়ান্টরা তাদের উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে, যা বিশ্ববাজারে সরবরাহের ঘাটতিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার ছায়া, লাফিয়ে বাড়ছে বন্ডের সুদ
জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি খেসারত দিতে হচ্ছে বৈশ্বিক পরিবহন ও উৎপাদন খাতকে। পরিবহন খরচ সামাল দিতে শিপিং জায়ান্ট ‘মার্স্ক’ ইতোমধ্যেই জরুরি ফুয়েল সারচার্জ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পণ্য ও সেবামূল্য বৃদ্ধির কারণে বিশ্বব্যাপী নতুন করে মূল্যস্ফীতি রেকর্ড ছোঁয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মূল্যস্ফীতি সামলাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার আরও বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হার বিগত বহু বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। পাশাপাশি জাপানের নিক্কেই (১.৪%), দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি (২.৬%) এবং ইউরোপের স্টক্স ৬০০ সহ এশিয়া ও ইউরোপের প্রায় সব প্রধান শেয়ার সূচকেই বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে।
এনএন/ ০৮ অক্টোবর ২০২৬


