এই আগ্রাসনে বিশ্ব নীরব থাকতে পারে না

এই আগ্রাসনে বিশ্ব নীরব থাকতে পারে না

ভেনেজুয়েলায় মাদুরোর শাসনকে গণতান্ত্রিক বলার কোনো কারণ নেই। তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে ভোট কারচুপি, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণতন্ত্র নস্যাতের অভিযোগ আছে। কিন্তু স্বাধীন, সার্বভৌম দেশ হিসেবে কে সরকার পরিচালনা করবে, কোন পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা হবে, সেটা নির্ধারণ করার পূর্ণ অধিকার ভেনেজুয়েলার নাগরিকদের। বাইরে থেকে হস্তক্ষেপ করে ও হামলা চালিয়ে সরকার পরিবর্তন আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্প প্রশাসনের হামলাকে নির্লজ্জ সাম্রাজ্যবাদ বলে অভিহিত করেছেন।

গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষার নামে হোক আর সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধের নামে হোক, বিশ্বের দেশে দেশে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ এবং শাসন পরিবর্তনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে সম্পদ লুণ্ঠন। বর্তমান বিশ্বে প্রত্যক্ষ উপনিবেশবাদ না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও এর পশ্চিমা মিত্ররা সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উপায় হিসেবে পরোক্ষ উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা করে চলেছে। কিন্তু ইতিহাস বলছে, সম্পদ দখলের এই নব্য উপনিবেশবাদী প্রচেষ্টা কখনোই সফল হয়নি। ভিয়েতনাম যুদ্ধ, ইরাক যুদ্ধ, আফগানিস্তান যুদ্ধ—সবখানেই মার্কিনিদের পশ্চাদপসরণের অপমানজনক ইতিহাস রয়েছে। অনেক অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, রক্তপাত ও ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। এর খেসারত অঞ্চল ছাপিয়ে পুরো বিশ্বকেই দিতে হয়েছে।

লাতিন আমেরিকায় মার্কিন হস্তক্ষেপের ইতিহাসও ভয়াবহ কলঙ্কময়। ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলায় সেই অন্ধকার যুগের পুনরাবৃত্তি ঘটাল। এ ঘটনায় বিশ্ব আরও অনিরাপদ হলো। জাতিসংঘসহ সমগ্র গণতান্ত্রিক বিশ্বের উচিত, এই নির্লজ্জ আগ্রাসনের নিন্দা জানানো। ভেনেজুয়েলার জনগণকেই ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভাগ্যের নির্ধারক হতে হবে।

Scroll to Top