মেয়েদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে দুর্দান্ত এক গোল করে আলোচনায় এসেছেন ঋতুপর্ণা চাকমা। কর্নার থেকে সরাসরি নেয়া এক অসাধারণ গোল, যেটিকে ফুটবল ভাষায় বলা হয় ‘অলিম্পিক গোল’। যা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়েছে আলোচনা ও কৌতূহল।
ভারতের গোয়ার পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে বুধবার গোয়ায় নেপালের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতে বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় নেপাল। ২৩ মিনিটে দীপা শাহির নেয়া সেটপিস থেকে বল গোলকিপার মিলি আক্তারের হাত ছুঁয়ে ফিরে আসে। পরে ডিফেন্ডারদের দুর্বল ক্লিয়ারেন্সের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গীতা রানার শট জালে জড়িয়ে যায়। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দুর্দান্ত এক কর্নার থেকে অলিম্পিক গোল করে বাংলাদেশকে সমতায় ফেরান ঋতুপর্ণা। তার বাঁ-পায়ের শট সরাসরি গোলকিপারের হাত ছুঁয়ে জালে জড়িয়ে যায়।
ফুটবলে কর্নার কিক থেকে বল কোন খেলোয়াড়ের স্পর্শ ছাড়াই সরাসরি যদি জালে প্রবেশ করে, সেটিকেই বলা হয় অলিম্পিক গোল। অর্থাৎ বলটি কর্নার থেকে ঘুরে বা বাঁক খেয়ে সরাসরি গোল হলে, মাঝখানে আর কারও ছোঁয়া লাগবে না, তবেই এটি এই বিশেষ স্বীকৃতি পায়।
১৯২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকে ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয় উরুগুয়ে। ওই আসরের পর এক প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে মুখোমুখি হলে আর্জেন্টিনার সেসারেও অনজারি কর্নার কিক থেকে সরাসরি গোল করেন। অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষে করা সেই গোলকেই স্প্যানিশ ভাষায় বলা হয় ‘গোল অলিম্পিকো’ যেখান থেকেই পরবর্তীতে ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষায় ‘অলিম্পিক গোল’ নামটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
শুরুতে এমন গোল বৈধ কি না, তা নিয়ে কিছুটা বিতর্ক থাকলেও পরে ফুটবলের নিয়ম নির্ধারণকারী সংস্থা আইএফএবি স্পষ্ট করে জানায়, কর্নার কিক থেকে সরাসরি গোল পুরোপুরি বৈধ।



