জোটবদ্ধ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার নিয়ে আইনে যে সংশোধনী আনা হয়েছে, সেটা নিয়েও দলগুলোর কাছ থেকে পক্ষে-বিপক্ষে বক্তব্য এসেছে সংলাপে।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে রাজনৈতিক দলগুলোর সহায়তা চেয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। গতকাল বিকেলের সংলাপে সিইসি বলেন, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে অন্তর্বর্তী সরকার ও ইসি ওয়াদাবদ্ধ। এ ক্ষেত্রে দলগুলোর সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। ইসি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে। ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনতে উদ্বুদ্ধ করতে তিনি দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
সিইসি আরও বলেন, দেশের আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক, সামাজিক বাস্তবতাটা মেনে নিয়েই ইসিকে এগোতে হবে। দলগুলোর পরামর্শ ইসি বিবেচনায় রাখবে। তিনি জানান, গণভোটের আইন হওয়ার পর এ বিষয়ে কাজ শুরু করবে ইসি।
সংলাপে নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। সংলাপ সঞ্চালনা করেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
ইসি ১৩ নভেম্বর নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করে। এখন ইসিতে নিবন্ধিত দল আছে ৫৬টি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত আছে।
ইসি সূত্র জানায়, গতকাল পর্যন্ত ৪৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও তৃণমূল বিএনপি বাদে বাকি ৪৭টি দল সংলাপে অংশ নিয়েছে। এ ছাড়া ইসিতে নিবন্ধিত জাতীয় পার্টি (জাপা), আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিক দল জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি, তরীকত ফেডারেশনকে এখনো আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা এই পর্যায়ে শেষ। কিছু দলের নিবন্ধনের আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে। কোনো দল নিবন্ধন পেলে তাদের সঙ্গে আবার আলোচনা হতে পারে।
জাপা ও ১৪ দলের শরিকদের সংলাপে ডাকা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, এ বিষয়ে ইসি এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।