ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইশতেহার ঘোষণা করেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
ইশতেহারে প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর কথা বলা হয়েছে। এ কার্ডের মাধ্যমে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা বা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, যা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।
নিরাপদ ও টেকসই ঢাকা বিনির্মাণ
মনোরেল চালুকরণ: মেট্রোরেলের পাশাপাশি মনোরেল ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর ফলে, রাজধানী ও তার কাছাকাছি বিভিন্ন স্থানগুলোকে আরো সহজে ও নিরাপদে সংযুক্ত করা সম্ভব হবে।
নারী নিরাপত্তা ও নারীবান্ধব বাস চালুকরণ: নারীদের সার্বক্ষণিক নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রাথমিকভাবে ঢাকার বিভিন্ন রুটে ‘শুধুমাত্র নারী যাত্রী’ বাস (পিংক বাস) চালু করা হবে। পরীক্ষামূলকভাবে সেখানে ড্রাইভার ও সহকারী হিসেবেও নারীরা থাকবেন।
ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) চালুকরণ: ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ভালো করার লক্ষ্যে ঢাকা শহরে পরীক্ষামূলকভাবে ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল চালু করা হবে।
আইটিএস ও সিসিটিভি নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি: ঢাকার প্রধান সড়কে ‘ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (আইটিএস)’-এর বাস্তবায়নের মাধ্যমে যানজট কমানো এবং শহরের সকল প্রান্তে পর্যাপ্ত সিসিটিভির মাধ্যমে জন-নিরাপত্তা বাড়ানো হবে। যানবাহনে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও টোলিং চালু করে শহর ও মহাসড়কের যানজট কমানো হবে।
শেয়ারড পার্কিং: ঢাকা শহরে পার্কিং সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে এবং শেয়ারড পার্কিং উৎসাহিত করা হবে।
রিক্সা-চলাচলে বাস্তবধর্মী পরিকল্পনা গ্রহণ: রিক্সা-চলাচলে সমন্বয় ভিত্তিক বাস্তবধর্মী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। রিকশাচালকদের ফ্রি ট্রেইনিং করানো হবে এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স প্রদান করা হবে।
বৃত্তাকার নৌ-পথ এবং রিং রোড নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ: ঢাকার উপর আন্তঃজেলা ট্রাফিকের চাপ কমাতে রিং রোড নেটওয়ার্ক, তার সাথে সংযুক্ত রেডিয়াল রোড দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট কর্তৃপক্ষ গঠন: ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয় করার জন্যে একটি স্বাধীন মেট্রোপলিটন পরিবহন কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
ভাসমান ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন: ভাসমান ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী (রাস্তার পাশে, স্টেশন, নৌঘাট বা ফুটপাতে বসবাসকারী, জলবায়ু উদ্ভাস্তু), লিঙ্গ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, মাদকাসক্ত ও পুনর্বাসনবঞ্চিত মানুষদের জীবনমান উন্নয়নে ও নিরাপদ পুনর্বাসনের লক্ষ্যে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
নগর দারিদ্র বিমোচন: নগর দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে শহর ও নগরের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য জনসংখ্যা ও চাহিদা অনুযায়ী সামাজিক সুরক্ষা সেবার আওতা সম্প্রাসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
বস্তিবাসীর আবাসন সংকট নিরসন এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন: কড়াইল বস্তির বাসিন্দাদের আবাসনসংকট নিরসনের লক্ষ্যে সেখানে ছোট ছোট ফ্ল্যাট নির্মাণ করে তাদের প্রত্যেকের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে। ফ্ল্যাট নির্মাণের জন্য বস্তি ছাড়ার আগেই প্রত্যেক বস্তিবাসী পরিবারকে ফ্ল্যাটের অগ্রিম বরাদ্দপত্র দেয়া হবে। পাশাপাশি সেখানে বসবাসরতদের সন্তানদের শিক্ষা ও সবার স্বাস্থ্যের উন্নয়নেও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।



