ইরানের হামলার আশঙ্কায় উপসাগরীয় অঞ্চলে নজরদারি বিমান পাঠাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া | চ্যানেল আই অনলাইন

ইরানের হামলার আশঙ্কায় উপসাগরীয় অঞ্চলে নজরদারি বিমান পাঠাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া | চ্যানেল আই অনলাইন

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে সহায়তা করতে দীর্ঘ-পাল্লার নজরদারি বিমান ও আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবেনিজ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সংঘাত শুরু হয়েছে মাত্র এক সপ্তাহের একটু বেশি সময় আগে, কিন্তু ইরানের পাল্টা হামলা দ্রুতই বাড়ছে। ইতোমধ্যে যে মাত্রা ও বিস্তারে হামলা হচ্ছে, তা আমরা আগে দেখিনি।

তিনি জানান, সাইপ্রাস থেকে উপসাগরীয় অঞ্চল পর্যন্ত অন্তত ১২টি দেশ বিভিন্নভাবে হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্ট্রেলিয়ার বিমানবাহিনী আগামী চার সপ্তাহের জন্য একটি ই-৭এ ওয়েজটেল নজরদারি বিমান এবং সহায়ক কর্মী মোতায়েন করবে। এর লক্ষ্য হবে উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখা এবং দেশগুলোর সম্মিলিত আত্মরক্ষা প্রচেষ্টায় সহায়তা করা।

তিনি আরও জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে ফোনালাপের পর আমিরাতকে উন্নত মাঝারি-পাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা উদ্বেগ

অ্যালবানিজ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার অস্ট্রেলীয় নাগরিক যাদের মধ্যে প্রায় ২৪ হাজারই সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি এই সিদ্ধান্তের অন্যতম প্রধান কারণ।

তিনি বলেন, অস্ট্রেলীয়দের সহায়তা করা মানে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশকে উসকানিহীন হামলার বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করতে সহায়তা করা। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই মোতায়েন সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক।

আমাদের সরকার পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে আমরা ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছি না এবং ইরানের মাটিতে অস্ট্রেলীয় সেনা পাঠানোরও কোনো পরিকল্পনা নেই, বলেন তিনি।

ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্য ছেড়েছেন ২ হাজার ৬০০ অস্ট্রেলীয়

প্রধানমন্ত্রী জানান, গত সপ্তাহ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৬০০ অস্ট্রেলীয় নাগরিক মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগ করেছেন। তবে যারা এখনো অঞ্চলটিতে আছেন এবং বের হতে চান, তাদের সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

বিরোধী দলের তীব্র সমালোচনা

অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী দল অস্ট্রেলিয়ান গ্রিনস এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। দলটির আশঙ্কা, এতে করে দেশটি আবারও যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে।

২০০১ সালে আফগানিস্তান ও ২০০৩ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন অভিযানে অস্ট্রেলিয়া অংশ নিয়েছিল। এসব সংঘাতে দেশটির ৫০ জনের বেশি সামরিক সদস্য নিহত হন বলে জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ান ওয়ার মেমোরিয়াল।

গ্রিনস দলের সিনেটর লরিসা ওয়াটার্স বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর অবৈধ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে অস্ট্রেলীয়রা চায় না।

তিনি অভিযোগ করেন, অস্ট্রেলীয় সেনা মোতায়েন করলে সংঘাত আরও বাড়বে এবং দেশটি আবারও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে আটকে যেতে পারে।

তার ভাষায়, গতকাল ছিল মার্কিন গোয়েন্দা বিমানে জ্বালানি সরবরাহ, আজ নজরদারি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র, আর কাল হয়তো আরও বেশি সেনা। ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে সরকারের কোনো রেড লাইন নেই।

ইরানের নারী ফুটবল দলের সদস্যদের আশ্রয়

এদিকে মঙ্গলবার আলাদা এক ঘোষণায় অ্যালবানিজ জানান, ইরানের নারী ফুটবল দলের পাঁচ সদস্যকে অস্ট্রেলিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে আশ্রয় দিয়েছে। তারা অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এএফসি মহিলা এশিয়ান কাপ ২০২৬ উপলক্ষে দেশটিতে এসেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, তাদের মানবিক ভিসা দেওয়া হয়েছে এবং অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে।

অ্যালবানিজ বলেন, এই সাহসী নারীদের দুরবস্থা অস্ট্রেলীয়দের নাড়া দিয়েছে। তারা এখানে নিরাপদ এবং এখানে নিজেদের ঘরের মতোই অনুভব করা উচিত।

Scroll to Top