মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে ইরান সতর্কবার্তা দিয়েছে, যেকোনো হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা অঞ্চলজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন জ্বালানি ও অবকাঠামোতে আঘাত হানতে পারে।
ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ বলেন, যদি আমাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত করা হয়, তবে অঞ্চলজুড়ে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে বৈধ লক্ষ্য হিসেবে ধ্বংস করা হবে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘদিন ধরে বাড়তে পারে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দেন, যে যদি হরমুজ প্রণালী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পূর্ণভাবে খোলা না হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করবে। ইরান বলেছে, প্রণালী ইতিমধ্যেই খোলা আছে, শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য নয়।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, প্রণালীকে ধ্বংসের দায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের। পাশাপাশি ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস হুমকি বাস্তবায়িত হলে তারা হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করতে পারে এবং মার্কিন শেয়ারযুক্ত কোম্পানি ও তাদের ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করবে।
ইরানের হামলার জবাবে ইতিমধ্যেই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাকসহ কিছু প্রাশান্ত দেশেও আঘাত করা হয়েছে। এতে জনহানি, অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং বিশ্ববাজারে প্রভাব পড়েছে।
অপরদিকে, বেনিয়ামিন নেতান্যাহু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পাশে থাকার আহ্বান জানান। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হাকান ফিদান বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়ে যুদ্ধ শেষ করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘর্ষ আরও মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছতে পারে, যেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও বাজারে বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।




