ইরানের বিক্ষোভ সমর্থনে আফগানিস্তানে নারীদের সমাবেশ | আন্তর্জাতিক

<![CDATA[

ইরানের নীতি পুলিশের হেফাজতে এক নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের সমর্থনে আফগানিস্তানে বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নারীদের আয়োজিত একটি সমাবেশ বানচাল করতে তালেবান বাহিনী ফাঁকা আকাশে গুলি ছুঁড়ে। খবর এএফপি’র।

সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, কাবুলে ইরান দূতাবাসের সামনে আফগানিস্তানের অন্তত ২৫ নারী এ বিক্ষোভ-সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তাদেরকে ইরানের প্রতিবাদ বিক্ষোভে ব্যবহার করা একই ধরনের শ্লোগান দিতে দেখা যায়। তারা চিৎকার করে বলতে থাকে ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা! পরে তালেবান বাহিনী আকাশে গুলি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে।

ইরানে হিজাবকাণ্ডে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। বিক্ষোভ দমনে চালানো নিরাপত্তাবাহিনীর ব্যাপক অভিযানে অন্তত ৭০ জনের বেশি নিহত হয়েছে।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর ইরানের নীতি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর তেহরানে মারা যান ২২ বছর বয়সী তরুণী মাহসা আমিনি। কর্তৃপক্ষের দাবি, গ্রেফতার হওয়ার পর মাহসা আমিনি ‘হৃদ্‌রোগে’ আক্রান্ত হয়ে কোমায় চলে যান এবং পরে গত শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মারা যান। তবে মাহসা আমিনির পরিবার বলেছে, তার আগে থেকে হৃদ্‌রোগ ছিল না। মাহসার মরদেহ পরীক্ষা করার সুযোগ দেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ পরিবারের।

আরও পড়ুন: ইরানে বিক্ষোভ, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৬

প্রতিবাদ বিক্ষোভে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংস প্রতিক্রিয়ার কড়া সমালোচনা করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন। মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে সংস্থাটি বলছে, তার মর্মান্তিক মৃত্যু, নির্যাতনের অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে কী ধরনের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে তার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত হতে হবে। মাহসার পরিবার যে অভিযোগ এনেছে সেটাও গুরুত্বসহকারে দেখতে হবে।

এর আগে ২০১৭ সালে কয়েক ডজন নারী জনসম্মুখে হিজাব খুলে প্রতিবাদ জানান। তখন কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এবারের আন্দোলনে অনলাইন ও সরাসরি দুই ধরনের অংশগ্রহণই চোখে পড়ার মতো। তাই রাস্তায় বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি অনলাইনেও ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইরানের ‘নীতি পুলিশ’ কারা, তাদের কাজ কী?

১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামিক বিপ্লব হওয়ার পর থেকে নারীদের জন্য হিজাব পরিধান বাধ্যতামূলক। দেশটির নীতি পুলিশ এই ড্রেস কোড কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে ড্রেস কোডের নিয়ম বাস্তবায়নে বিভিন্ন মানুষ বিশেষত তরুণীদের সঙ্গে নৈতিকতা পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে ঘিরে কড়া প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে। সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা অনেক সময় জোর করে নারীদের পুলিশের গাড়িতে তোলে।

এদিকে মাহসা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে কানাডা, জার্মানি ও তুরস্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ইরান সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিক্ষোভকারীরা।

]]>