ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি | চ্যানেল আই অনলাইন

ইরানের ওপর নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার পর পাল্টা জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তেহরান। মার্কিন চাপ মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়ে ইরান বলেছে, দেশটির বড় বাণিজ্যিক অংশীদাররাও ওয়াশিংটনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সোমবার (২৪ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবকে গুরুত্ব না দেওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও সীমিত করার মতো অর্থনৈতিক অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র নেই।

এর আগে সোমবার ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ঘোষণা দেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তিনি বলেন, তেহরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল করে দেশটির আয়ের পথ সংকুচিত করাই এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোকে মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি নিতে হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

তবে নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় কোন কোন বাণিজ্যিক অংশীদার পড়বে কিংবা ঠিক কবে থেকে এসব ব্যবস্থা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি বেসেন্ট। সংশ্লিষ্ট দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন মার্কিন নির্দেশনা মেনে চলার জন্য কিছুটা সময় দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে ইরানের তেল বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে ওই তালিকায় চীনের কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে রাখা হয়নি। ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীনের সঙ্গে তেহরানের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে তাই নতুন মার্কিন নীতির গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসার পর গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি এখন আর অন্য দেশগুলো সহজে বিশ্বাস করে না। তাঁর দাবি, ইরানের বড় বাণিজ্যিক অংশীদাররা বিভিন্ন বার্তার মাধ্যমে জানিয়েছে, তারা ওয়াশিংটনের এসব বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।

ইরানের অর্থমন্ত্রী আলি মাদানিজাদেহও জানিয়েছেন, নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় তাঁর দেশ ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা ইরান অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় নিজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।

মাদানিজাদেহের দাবি, ইরানের সক্ষমতা শুধু প্রতিরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; প্রয়োজনে শত্রুর হামলার জবাব দেওয়ার সামর্থ্যও রয়েছে। চীন ও রাশিয়া মার্কিন নতুন পদক্ষেপ মেনে নেয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। অন্য দেশগুলোও ওয়াশিংটনের চাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন ইরানের এই মন্ত্রী।

অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার আগেই ইরান সামরিক পাল্টা জবাবের হুমকি দিয়েছিল। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বলেছেন, ইরানের অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়লে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ এবং জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোতে বড় ধরনের আঘাত হানতে পারে তেহরান।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাব এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন একদিকে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন কৌশল খুঁজছে।

Scroll to Top