ইরানের পরবর্তী নেতা নিয়ে ভয়ে আছেন ট্রাম্প

ইরানের পরবর্তী নেতা নিয়ে ভয়ে আছেন ট্রাম্প

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রয়াণের পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যখন চরম উত্তপ্ত, তখন ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউসে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের সঙ্গে এক যৌথ আলোচনায় ট্রাম্প স্বীকার করেন, সামরিকভাবে ইরানকে কোণঠাসা করা সম্ভব হলেও, দেশটির শাসনব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

ইরানের পরবর্তী নেতা নিয়ে ভয়ে আছেন ট্রাম্প

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে, এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ভয়ের দিক হলো, বর্তমান শাসনের পতনের পর যদি এমন কেউ ক্ষমতায় আসে যে ‘আগের ব্যক্তির মতোই খারাপ’, তবে সব রক্তক্ষয় বৃথা যাবে। তিনি বলেন, আমরা চাই এমন কেউ ক্ষমতায় আসুক যে ইরানের সাধারণ মানুষের জন্য সুদিন ফিরিয়ে আনবে। কিন্তু পাঁচ বছর পর যদি দেখা যায় পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি, তবে সেটি হবে সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। তিনি ইরানি জনগণকে এখনই গণবিক্ষোভে না নামার পরামর্শ দিয়ে বলেন, পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত বিপজ্জনক।

এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে বিভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মার্কিন হামলায় নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেয়ায় স্পেনের ওপর চরম ক্ষোভ জানান ট্রাম্প। তিনি স্পেনকে ‘ভয়ংকর’ আখ্যা দিয়ে দেশটির সঙ্গে সমস্ত ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, ন্যাটোর প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধিতেও স্পেনের ভূমিকা সন্তোষজনক নয়। অন্যদিকে স্পেন সরকার জানিয়েছে, তারা তাদের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এমনকি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ধীরগতির সিদ্ধান্ত নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন ট্রাম্প।

যুদ্ধের পর প্রথম ইউরোপীয় নেতা হিসেবে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ। তিনি তেহরানের বর্তমান শাসনের অবসানের বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে একমত পোষণ করলেও, ইউরোপের নিরাপত্তার স্বার্থে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের ওপর বেশি জোর দেন। মার্জের মতে, বিশ্বে ‘দুষ্ট লোকের’ অভাব নেই, তাই ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা এখন সবচেয়ে জরুরি।

যুদ্ধের কারণ নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আগের বক্তব্যকে কিছুটা সংশোধন করে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানই আগে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তিনি বলেন, আমি চেয়েছি ইরান যেন আগে আঘাত করতে না পারে। যদি পরিস্থিতি এমন হয়ে থাকে, তবে হয়তো আমিই ইসরাইলকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে উৎসাহিত করেছি।

আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে

একদিকে সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের আস্ফালন, অন্যদিকে মিত্রদের সাথে কূটনৈতিক বিবাদ আর সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার অনিশ্চয়তা, সব মিলিয়ে ইরানকে কেন্দ্র করে এক জটিল ও সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Scroll to Top