ইরানি নেতাদের ইসরায়েল গুপ্তহত্যার চেষ্টা করেছিল: যুক্তরাষ্ট্র | চ্যানেল আই অনলাইন

ইরানি নেতাদের ইসরায়েল গুপ্তহত্যার চেষ্টা করেছিল: যুক্তরাষ্ট্র | চ্যানেল আই অনলাইন

চলতি বছর যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা চলাকালে ইসরায়েল ইরানের শীর্ষ আলোচকদের লক্ষ্য করে গুপ্তহত্যার পরিকল্পনা করছে বলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে একটি সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল। এতে তেহরানকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল।

শুক্রবার ৩ জুলাই সংবাদ মাধ্যম দ্যা ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সাথে যুদ্ধ শেষ করতে এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার জন্য যখন একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সম্পাদনের চেষ্টা করছিল, তখন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করেছিলেন যে ইসরায়েল ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের গুপ্তহত্যা করতে চায়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং দেশটির সংসদীয় স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফকে হত্যার বিষয়ে ওয়াশিংটন তীব্রভাবে আপত্তি জানিয়েছিল। এই সময়ে তারা মধ্যস্থতাকারীদেরকে ইসরায়েলের গুপ্তহত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে ইরানকে সতর্ক করার পদক্ষেপ নিয়েছিল।

একজন কূটনীতিক বলেছেন, গত মার্চে ট্রাম্প প্রশাসন যখন যুদ্ধ শেষ করার জন্য কূটনৈতিক বিকল্পগুলো খতিয়ে দেখতে শুরু করে, তখন থেকেই মার্কিন কর্মকর্তারা ইসরায়েলি প্রতিপক্ষদের ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে হত্যা করা বন্ধ করতে বলেছিলেন।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, মার্কিন কর্মকর্তারা যে ইরানকে সতর্ক করেছেন যে তাদের শীর্ষ আলোচকদের হত্যা করা হতে পারে, তা মার্কিন-ইসরায়েল সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং ইসরায়েলি সরকারের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের সীমিত প্রভাবকেই তুলে ধরে।

রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক উভয় প্রশাসনকে সাবেক স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্মকর্তা অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, “এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধাভিযানের লক্ষ্যের ভিন্নতা এবং যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো আলোচনা সম্পন্ন করতে পারে, তা নস্যাৎ করার ব্যাপারে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর মৌলিক সংকল্পকেই প্রকাশ করে।”

ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাস এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের কাছে জানতে চাইলে একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “প্রেসিডেন্ট চান শান্তি প্রক্রিয়াটি তার নিজস্ব গতিতে চলুক।”

ইসরায়েলি গুপ্তহত্যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের খবর এর আগে নিউইয়র্ক টাইমস প্রকাশ করেছিল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরান যুদ্ধ শুরু করে, তখন ইসরায়েল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বহু ইরানি রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাকে হত্যা করে, অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা হ্রাস করার দিকে মনোযোগ দেয়।

Scroll to Top