ইবোলায় মৃতের সংখ্যা ২২০: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে | চ্যানেল আই অনলাইন

ইবোলায় মৃতের সংখ্যা ২২০: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে | চ্যানেল আই অনলাইন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেছেন, বর্তমানে ইবোলা প্রাদুর্ভাবে সন্দেহভাজন মৃতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ২২০ এবং আক্রান্তদের শনাক্ত করতে বিলম্ব হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

সোমবার (২৫ মে) সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক বলেন, আমরা জরুরি ভিত্তিতে কার্যক্রম বাড়াচ্ছি, কিন্তু এই মুহূর্তে মহামারি আমাদের ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও সতর্ক করেন যে, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের প্রতিবেশী দেশগুলোর অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

এর আগে, সোমবার উগান্ডায় আরও দুইজনের শরীরে ইবোলা সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। ফলে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতজনে।

গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে টেড্রোস জানান, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলা মোকাবেলায় নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ৯০০-এর বেশি সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।

ইবোলা একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা শরীরের তরলের সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। এতে মারাত্মক রক্তক্ষরণ ও অঙ্গ বিকলও হতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুও ঘটে।

সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইতুরি প্রদেশ। সেখান থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে এবং সীমান্ত পেরিয়ে উগান্ডাতেও এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।

ইবোলার নতুন বুন্ডিবুগিও ধরনের এখনও কোনো কার্যকর টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।

গত সপ্তাহে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই বিরল বুন্ডিবুগিও ধরনের প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ হিসেবে ঘোষণা করে। এর ফলে কঙ্গো ও উগান্ডার বিভিন্ন শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে, উগান্ডার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সোমবার আরও নতুন আক্রান্ত শনাক্তের কথা জানিয়েছে, যার ফলে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭ জনে পৌঁছেছে।

উগান্ডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নতুন আক্রান্ত দুজনই রাজধানী কাম্পালার একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মী এবং তারা উগান্ডার নাগরিক।

পূর্ব কঙ্গোতে ইবোলা পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রোববার সন্ধ্যায় ক্ষুব্ধ যুবকেরা ইবোলা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া একটি হাসপাতালে হামলা চালায়। সেখানে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেলে চিকিৎসাকর্মীরা রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বাধ্য হন।

মংবওয়ালু জেনারেল হাসপাতালে হামলায় কেউ আহত হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে হাসপাতালের মেডিকেল পরিচালক রিচার্ড লোকুডু বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, হামলাকারীরা তাদের আত্মীয়দের দুটি মরদেহ হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, মংবওয়ালু জেনারেল হাসপাতাল বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ে তার কাছে আর বিস্তারিত তথ্য ছিল না।

শনিবার ইতুরি প্রদেশের মংবওয়ালুর কিছু বাসিন্দা আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) পরিচালিত একটি তাঁবুতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেখানে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত ইবোলা রোগীদের রাখা হয়েছিল।

লোকুডু জানান, ওই হামলার সময় সন্দেহভাজন ইবোলা সংক্রমণে আক্রান্ত ১৮ জন ব্যক্তি সেখান থেকে পালিয়ে যায় এবং পরে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এর আগের বৃহস্পতিবার, ইবোলায় মারা যাওয়া সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর রুয়ামপাড়া শহরের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রেও আগুন দেওয়া হয়।

কঙ্গোর কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিয়েছে, যেখানে সম্ভব সন্দেহভাজন ইবোলা আক্রান্তদের দাফনের কাজ সরকারি কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করতে হবে। তবে এ সিদ্ধান্তে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

গত শুক্রবার সরকার জানায়, ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে উত্তর-পূর্ব কঙ্গোতে ৫০ জনের বেশি মানুষের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া, শোকসভা ও জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হবে।

Scroll to Top