ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় এক বাংলাদেশি নাগরিককে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে দেশটির পুলিশ। সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করে তাকে গ্রেপ্তারে জনসাধারণের সহযোগিতা চেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
২৮ জুন ইতালির সংবাদমাধ্যম ইতালি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রোমের অরেলিও জেলার কাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিও সড়কের একটি বাসায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ৩৯ বছর বয়সী কামাল উদ্দিন, তার ৩৮ বছর বয়সী স্ত্রী আরজু এবং তাদের ছয় বছর বয়সী মেয়ে অ্যালিসিয়া। তারা সবাই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত।
এ হামলায় পরিবারের ১৮ বছর বয়সী বড় ছেলে অনিয়ন গুরুতর আহত হন। তাকে দ্রুত রোমের পলিক্লিনিকো জেমেলি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত।
হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে রোম পুলিশের মোবাইল স্কোয়াড। তদন্তকারীরা নিহত পরিবারের স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ ও নিহতদের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে ঘটনার আগের সময়ের গতিবিধি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের ধারণা, হত্যাকারী পরিবারের পরিচিত হওয়ায় তাকে স্বেচ্ছায় ঘরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছিল।
ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। বাসার দেয়ালে রক্তমাখা একটি হাতের ছাপ এবং সিঁড়িতে আহত ছেলের পালিয়ে যাওয়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে।
পুলিশ ও কারাবিনিয়েরি বাহিনীর ধারণা, হত্যাকাণ্ডের পর এক বাংলাদেশি নাগরিক হেঁটে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তিনি নিহত পরিবারের পরিচিত এবং পরিবারের বন্ধু ছিলেন বলে জানা গেছে।
তদন্তকারীদের বিশ্বাস, ধারালো চপারজাতীয় অস্ত্র দিয়ে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি চপারও জব্দ করা হয়েছে, যা হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আর্থিক বিরোধের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
রোম পাবলিক প্রসিকিউটরস অফিসের তত্ত্বাবধানে রোম পুলিশ সদর দপ্তরের হোমিসাইড ইউনিট তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রসিকিউটরস অফিসের নির্দেশে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত বাংলাদেশি নাগরিক শাহাদাত হোসেনের ছবি প্রকাশ করেছে ইতালির স্টেট পুলিশ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার জন্ম ১০ মে ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশে।
সন্দেহভাজনের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে ৩৩৪৬৯০৩২৯৫ নম্বরে রোম পুলিশের মোবাইল স্কোয়াডে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পুলিশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি স্টেট পুলিশের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলেও তার ছবি প্রচার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় হত্যা ও গুরুতর শারীরিক আঘাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে। প্রসিকিউটর ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং নিহতদের মরদেহের ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর জিউসেপ্পে ক্যাসচিনি তদন্ত তদারকি করছেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে রোম পুলিশের বিশেষ তদন্ত দল।




