বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষে শ্রীমঙ্গলে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ বিএনপি, সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি।
বিশেষ অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালেক, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কো-অর্ডিনেটর সরফরাজ আহমেদ সরফু, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি ও জেলা যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন উজ্জ্বল।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান চৌধুরী তুহিন।
প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর আত্মার শান্তি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
শ্রীমঙ্গলে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসুচিতে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, এরই মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সকালে শ্রীমঙ্গল রাধানগর সড়কের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে কালে মন্ত্রী বলেন, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, শ্রীমঙ্গলের পর্যটন শিল্পকে আরও বিকশিত করতে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এর মাধ্যমে এমন পরিবেশ তৈরি করা হবে, যাতে দেশ-বিদেশের পর্যটকেরা শ্রীমঙ্গলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। পরে তিনি শ্রীমঙ্গল শিশু উদ্যান ও শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাব পরিদর্শন করেন।
দুপুরে শ্রীমঙ্গল শহরের কলেজ সড়কের হরিজন পল্লীতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, দেশের সব সরকারি ভবনকে পর্যায়ক্রমে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সচিবালয়সহ বিভিন্ন সরকারি ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে। পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের ভবনেও চালু করা হবে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা।
তিনি বলেন, শুধু অফিস আদেশ জারি করে দায়িত্ব শেষ করা হবে না। সোলার প্যানেল স্থাপনের ছয় মাস পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ বিল পর্যালোচনা করা হবে। এর মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হয়েছে, তা যাচাই করা হবে।
তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোতে সোলার প্যানেল স্থাপন করে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হবে। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে। তিনি শহরের কলেজ রোডে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে ক্লাব সদস্যদের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
শ্রীমঙ্গলের ময়লার ভাগাড়ের সমস্যা সমাধানেও নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরেও রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তাকে শ্রীমঙ্গলে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে ময়লা ফেলার জন্য একটি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে বসতবাড়ি গড়ে ওঠায় স্থানীয়দের আপত্তি রয়েছে। তাই শহর থেকে কিছুটা দূরে পরিবেশের ক্ষতি হবে না, এমন সরকারি জায়গা খুঁজে সেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শুধু ময়লা ফেলার জায়গা তৈরি না করে সেখানে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বর্জ্য থেকে জৈব সার ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গলে বর্তমানে জমে থাকা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্যও নতুন প্রকল্প নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত একজন পরামর্শককে শ্রীমঙ্গলে পাঠানো হবে। ওই পরামর্শককে লন্ডন থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর প্রতিটি পরিদর্শন ও কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গলের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিয়াউর রহমান ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাগণ।


