
🎧অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর বাজারের অগ্রণী ব্যাংক শাখায় গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় সাবেক দুই ম্যানেজারসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে শ্রীনগর থানা পুলিশ।
বুধবার (৭ অক্টোবর) গ্রাহকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে সহযোগিতা এবং মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, অগ্রণী ব্যাংক শ্রীনগর শাখার সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অফিসার (ক্যাশ) মোঃ জিন্নাহ হোসেন, সাবেক ম্যানেজার ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার রেজাউল হক, সাবেক ম্যানেজার ও প্রিন্সিপাল অফিসার মোঃ শরীফ উদ্দীন, সিকিউরিটি গার্ড রঞ্জু আহম্মেদ এবং সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সিকিউরিটি গার্ড আব্দুল হাই।
এর আগে একই ঘটনায় গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের মূল অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা মোঃ শরীফুজ্জামান সোহাগকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে আত্মগোপনে থাকার পর ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকার মিরপুরের মধ্য পাইকপাড়ায় তার বোনের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে নগদ ১ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন, একটি চেকবই, দুটি এটিএম কার্ড ও একটি লকারের চাবি উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, শ্রীনগর শাখায় কর্মরত থাকা অবস্থায় শরীফুজ্জামান সোহাগের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রাহকের হিসাবে টাকা জমা দেওয়ার রসিদ দেওয়া হলেও তা হিসাবে জমা হয়নি। আবার কোনো কোনো গ্রাহকের অজ্ঞাতসারে তাদের হিসাব থেকে বড় অঙ্কের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাংক শাখাটিতে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের ভিড় বাড়তে থাকে। ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩০০ জন গ্রাহক লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ২৫ কোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি। গ্রাহকদের অভিযোগের পর ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত ও নিরীক্ষার কথা জানানো হয়। পরে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এদিকে গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে অগ্রণী ব্যাংক শ্রীনগর শাখার অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করেছে। মূল অভিযুক্ত শরীফুজ্জামানকে দুদকের অনুসন্ধানে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে বলে ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।
সর্বশেষ বুধবার শ্রীনগর থানা পুলিশের সহযোগিতায় গ্রাহকদের অভিযোগ এবং আত্মসাতের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এতে অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখার অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা ছয়জনে দাঁড়াল।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও তদন্ত ও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
দূনীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহাথীর মুহাম্মদ সামী বলেন, শ্রীনগর থানা পুলিশের মাধ্যমে অভিযোগ কারীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে থানা হাজতে রাখা হয়েছে।
শ্রীনগর থানার ওসি তদন্ত মিল্টন দত্ত গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…


